আলোর গতি মাপা কিভাবে সম্ভব?

আলোর গতি কি সত্যি মাপা সম্ভব? এই কথাটা অনেকেরই মাথায় এসেছে? আজ আমরা সেই কথাটাই আলোচনা করবো।

বহুকাল থেকেই বিজ্ঞানী দেড় ধারণা ছিল আলোর গতি অসীম, অর্থই ছোড়ার সাথে সাথেই পৌঁছে যায় আলো, কিন্তু সেই সময় প্রযুক্তি গত বাধার কারনে সেই ধারণাকে ভুল প্রমান করা সম্ভব ছিল না, সর্ব প্রথম গ্যালিলিওর মাথায় এই কথাটি আসে যে আলোর গতিবেগ অসীম না, কিন্তু তিনি কিভাবে সেই গতিবেগ মাপবেন, অনেক চিন্তা ভাবনার পর তিনি একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

তিনি ও তাঁর এক বন্ধু দুটি ঢাকনা ওয়ালা লণ্ঠন নিয়ে দুই পাহাড়ের মাথায় যান, দুটি পাহাড়ের চূড়ার দূরত্ব ছিল ১ মাইল, তাঁর পরিকল্পনা ছিল প্রথমে তাঁর বন্ধু ঢাকনা খুলে আলো দেখাবে, আলো দেখা মাত্র গ্যালিলিও নিজের লণ্ঠনের ঢাকনা খুলে আলো দেখবেন, আর এর মধ্যে সময়ের অন্তর তারা মেপে নেবেন, পরে পরীক্ষা শেষে তাঁরা সেই সময়ের গড় বের করবেন যেটাই হবে আলোর গতিবেগ।

বলাই বাহুল্য তাঁদের সেই পরীক্ষা বিফল হয়েছিল, কারণটি খুবই সাধারণ, তা হলো সেই ১ মাইল পার করতে আলোর লেগেছিলো ০.০০০০০০০০৫ সেকেন্ড।

কিন্তু বৈজ্ঞানিকরা হাল ছেড়ে দেননি, এর পরের ঘটনা এর থেকে বেশ কয়েকশো বছর পরের। 1676 সালে ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ ওলে রোমার্ বৃহস্পতির উপগ্রফ আইও কে পর্যবেক্ষণ করছিলেন, যেটি একটি নির্দিষ্ট সময় বৃহস্পতিকে পর্যবেক্ষণ করে, কিন্তু সমস্যা হলো তিনি লক্ষ্য করলেন বছরের কিছু বিশেষ সময় উপগ্রহটি নির্ধারিত জায়গায় সময়ের একটু আগে পৌঁছে যায়, আর কিছু সময় সময়ের পরে, ব্যাপারটা তিনি কিছুতেই মেলাতে পারছিলেন না, তখনি তাঁর মাথায় আসে একটা কথা, যখন উপগ্রহটি একটু আগে দেখা যায় তখন বৃহস্পতি একটু হলেও পৃথিবীর কাছে থাকে, আর যখন গ্রহটি পৃথিবী থেকে দূরে থাকে তখন আবার উল্টো হয়, অর্থাৎ উপগ্রহটি নির্ধারিত জায়গায় সময়ের খানিক পরে পৌঁছয়।

ঠিক এই সময় তাঁর মাথায় এই ধারণাটি আসে যে তাঁর মানে এই যে আলোর গতি অসীম না, বৃহস্পতি থেকে পৃথিবীর দূরত্ব অনুযায়ী আলো আসতে বেশি কম সময় লাগছে, যেমন ভাবা তেমনি কাজ, দূরত্ব এবং সময় কে অংকে ফেলতেই আলোর গতিবেগ চলে আসে, আর মজার ব্যাপার সেট ফর্মুলা দিয়ে শনি ও মঙ্গল গ্রহের কিছু দূরত্বের ও অবস্থানের গণনা একদম মাইল যায়।

এর পরের বছর, অর্থাৎ 1677 সালে তাঁর প্রথম লেখাটি বেরোয় যা বৈজ্ঞানিক মহলে সমাদরে গৃহীত হয়েছিল, হ্যাঁ সত্যি কথা তাঁর গণনা পদ্ধতি একেবারে সঠিক না হলেও অনেকটা কাছাকাছি গিয়েছিলো, তাঁর গণনাতে আলোর গতিবেগ সেকেন্ডে ২১০,০০০০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে যেটা আসলে হলো ২৯৯,৭৯২ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে।

এমনকি আজও বৈজ্ঞানিকরা এই গণনাকে আরো নিখুঁত করার জন্য গবেষণা করে যাচ্ছেন, নাসার মহাকাশচারীরা চাঁদে একটি আয়না রেখে এসেছিলেন, যার থেকে প্রতিফলনের সময় দেখে এই গবেষণা করা হচ্ছে, প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে এই চাঁদে আয়না রাখার পরিকল্পনা প্রথমে গ্যালিলিওই ছিল।

About the author