অটল বিহারি বাজপেয়ী

এক সময় ছিল যখন সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের কাশ্মীরে যেতে হলে ভিসা নিতে হতো। বহু লোকে সেটা দেখেও কিছু বলেননি, যার মধ্যে পণ্ডিত নেহেরু ও ছিলেন, যিনি নিজে একজন কাশ্মীরি পণ্ডিত ছিলেন। কিন্তু সবাই তো চুপকরে থাকার নন অন্যায় দেখলে, যার মধ্যে একজন ছিলেন ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি।

ভারতের প্রথম শিল্প মন্ত্রী ও দেশের প্রথম মন্ত্রী সভার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্বেও কাশ্মীর নিয়ে মতানৈক্য থাকার কারণে উনি মন্ত্রী সভা এবং কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করেন ও নিজের আদর্শ কে বাস্তবায়িত করার জন্য এক পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম দেন “ভারতীয় জনসংহ”।

কিন্তু পার্টি প্রতিষ্ঠা করে চুপ করে বসে থাকার নন উনি, ১৯৫৩ সালে ভারতীয় নাগরিকদের কাশ্মীরে অবাধ প্রবেশের দাবিতে উনি আমরণ অনশন করার পরিকল্পনা করেন, সেই আন্দোলন করার জন্য উনি যখন তাঁর পার্টির সদস্য দের নিয়ে কাশ্মিরের উদ্দেশে রওনা দেন, রাস্তাই পরে একটি ব্রিজ, যেটা হেঁটে পার করতে হবে তাকে, পার করলেই অন্য দিকে কাশ্মীর, কিন্তু পার করতে গিয়ে হঠাৎ ব্রীজের ওপর থমকে দাঁড়ান তিনি, পার্টি সদস্য দের মধ্যে এক জনকে ডেকে বলেন “আমি জানি আমি হয়েতো কাশ্মীর থেকে বেঁচে ফিরবো না, কিন্তু আমার ইচ্ছে তুমি এখন এখান থেকে ফিরে যাও, আর তোমার কলমের মাধ্যমে আমাদের এই লড়াই কে তুমি সবার মাঝে তুলে ধরো, মনে রেখো অসির থেকে মসি বড়”।

ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আশঙ্কা অবশেষে সত্যি হয়েছিল, অনশনরত অবস্থাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছিলো ২৩সে জুন, ১৯৫৩ (অনেকের আশঙ্কা তাঁকে আসলে খুন করা হয়ছিল, সেই সমই কাশ্মিরের মহারাজা হরি সিংহের চক্রান্তে)। কিন্তু তাঁর ইচ্ছে কে সন্মান জানিয়ে যে ব্যাক্তি সেদিন ফিরে এসেছিলেন, থেমে থাকেনি তাঁর কলম, যার ফল অবশেষে উঠেছিল সেই নিষেধাজ্ঞা যার জন্য ভারতীয় দের আর ভিসা নিতে হয়নি কাশ্মীর যাবার জন্য।

আর হ্যাঁ, সেই ব্যাক্তির নামই হলো অটলবিহারী বাজপেয়ী। আর ভারতীয় জনসংহ, পরবর্তী কালে যা বদলে হয় বিজেপি (৬ এপ্রিল, ১৯৮০)।

আপনারা অনেকেই হয়ত ভাবছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কে? একটু মনে করিয়ে দিচ্ছি বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখার্জির সন্তান হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি। যাঁকে বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

About the author